Home অভিবাসন জার্মানিতে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশী শরণার্থীরা

জার্মানিতে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কায় বাংলাদেশী শরণার্থীরা

1562
0
SHARE
Refugee crisis migration
Remains of tents used by refugees and migrants seen at Idomeni, during an operation by Greek authorities to clear out the makeshift refugee camp on the Greek border with the Former Yugoslav Republic of Macedonia. Photo: UNHCR

রিয়াজুল ইসলাম, মীর জাবেদা ইয়াসমিন ও হোসাইন আব্দুল হাই    

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা থেকে প্রায় বছর তিনেক আগে দেশ ছাড়েন তিরিশোর্ধ কবির হোসেন (ছদ্মনাম)। প্রথমে দুবাইয়ে মাস ছয়েক নির্মাণ  শ্রমিকের কাজ করেন। এসময় সহকর্মীদের কাছে শুনতে পান ইউরোপের নানা দেশে লোভনীয় কাজের এবং অর্থ উপার্জনের সুযোগের গল্প। ইতিমধ্যে পরিচয় ঘটে একাধিক আদম পাচাকারীর সাথে। তারা তাঁকে অল্প খরচে স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার লোভ দেখায়। শুধু কবির নন, তার মত আরও অনেকে দালালদের মাধ্যমে দীর্গ স্থলপথ কিংবা উত্তাল সাগড় পাড়ি দিয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো শরণার্থীদের ভিড়ে মিশে গিয়ে ইউরোপে পা রাখা। তাদের বেশিরভাগেরই যাত্রার মঞ্জিল ছিলো অবশ্য জার্মানি। এসব অদক্ষ জনশক্তি জানতো না যাত্রাপথে কী ধরণের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আর সেই দীর্ঘ যাত্রাপথ পাড়ি দিয়ে জার্মানিতে এসেও কী ধরণের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি তারা হবে।  আওয়ার ভয়েসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার কিছু খণ্ডচিত্র।

যাত্রাপথে অকাল মৃত্যু

কবির বলেন ‘দেশে বসে শুনেছিলাম বিদেশে গিয়ে মানুষ অনেক টাকা আয় করে তাই সেই স্বপ্ন নিয়ে আমি প্রথমে দুবাই আসি। সেখানেই শুনি যে ইউরোপে যাওয়ার পথ নাকি খুব কঠিন। অনেক টাকা লাগে আবার অনেকে মারধরেরও শিকার হয়। তাই আমি ইউরোপের আশা বাদ দিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য এক দালাল ধরি। কিন্তু সে আমাকে সৌদি পাঠানোর নাম করে ইউরোপের দিকে পাঠিয়ে দেয়। রাতের অন্ধকারে পাহাড়-জঙ্গল পাড়ি দিয়ে ওমানের সীমান্ত পার করে দেয়। সেখান থেকে স্পিড বোটে করে আরব সাগর পাড়ি দিতে হয়। সাগরে বোটের প্রচণ্ড ঝাঁকুনি এতই তীব্র ছিলো যে বোটের ভেতরে গাদাগাদি করে থাকা অনেকেই পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারায়। কারে হাত-পা ভেঙ্গে যায়। উত্তাল সমুদ্রে এই তীব্র ঝাঁকুনি আর বোটের ভেতরের মর্মান্তিক পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে সমুদ্রেই ঝাঁপ দিয়ে পড়ে। এভাবে দালালরা আমাদেরকে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ইরানে।’

একই রকম অভিজ্ঞতা আছে ওমর ফারুকের। তিনিও দুবাই থেকে একইভাবে ইরান হয়ে ইউরোপে পা রাখেন। সমুদ্র পথে পাড়ি দিতে হয় রাতের অন্ধকারে। বোটের ভেতরে তার সাথে আরও বেশ কয়েকজন বাঙ্গালী ছিলো। উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে তাদের বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। ফারুক জানান, এদের কোন খবর দেশে থাকা পরিবার জানে না। চেষ্টা করেছি যদি কখনো তাদের পরিচিত কারো সঙ্গে কোনদিন দেখা হয় তাহলে জানাবো। কিন্তু সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময় নিজের পরণের কাপড় ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে ছিলো না। তাই কারো ঠিকানা আর যোগাযোগও আর রাখতে পারিনি।’

দালালদের অমানুষিক নির্যাতন

ঝুঁকিপূর্ণ মরণফাঁদ পেরিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে জার্মানিতে পৌঁছেন দক্ষিন বঙ্গের জেলা থেকে আসা সেলিম হক (ছদ্মনাম) দালালদের মাধ্যমে কুয়েত থেকে ইরাক, সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা হয়ে তুরস্ক পর্যন্ত আসেন। তাঁর ভাষায়, ইউরোপে বিশেষ করে জার্মানি আসতে পারলে সহজে অনেক টাকা আয় করা যাবে এবং একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া যাবেএই ধারণা নিয়েই ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলাম। বাগদাদ থেকে তুরস্ক পর্যন্ত আসার জন্য দালালের সাথে আমার চুক্তি ছিল ২৩০০ ডলার দেওয়ার। কিন্তু সিরিয়ার সীমান্তবর্তী কুর্দিস্তানে আসলে দালাল আমাদেরকে একটা বাড়িতে নিয়ে যায়। একটা ঘরে আমাদের আটকে প্রথমে নগ্ণ করে ফেলে। তারপর যার কাছে টাকাপয়সা কিংবা মূল্যবান যা কিছু ছিল সব কেড়ে নেয়। এরপরেও তারা আরও টাকা দাবি করে। আমাদের মাথায় পিস্তল ধরে দেশের বাড়িতে ফোন করাতো আর টাকা পাঠাতে বলতো। সেখানে আমরা সাতজন প্রায় এক মাস আটক ছিলাম। এমনকি দালালের চাপের মুখে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যেই অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। পরে আমরা সেখান থেকে সিরিয়ায় আসি। সেখানেও একই অবস্থা। নতুন দেশে পৌছলেই দালালদের হাত বদল হয়, আর প্রত্যেক দালাল তখন অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে থাকে। একদিন খুব ভোরে তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে আমাদেরকে সেখান থেকে বের করে একটানা দুই ঘণ্টা দৌড়িয়ে একটা পাহাড়ের উপর নিয়ে যায়। কেউ দৌড়াতে না পারলেই তাকে বেধড়ক পেটানো শুরু করে দালালরা, জানান সেলিম।

ইরান পাড়ি দেওয়া কবিরের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। তিনি জানান, দালালের সঙ্গে চুক্তি ছিল হয়তো ৫০ হাজার টাকার। কিন্তু ইরান পাঠানোর পর তারা দাবি করে তিন/চার লাখ টাকার। টাকা না দিতে পারায় কারো হাত পায়ের আঙ্গুল কেটে ফেলে মানব পাচারকারীরা। এমনকি চোখও উপড়ে ফেলে অনেকের। তিনি জানান, সীমান্ত পাড়ির সময় একদিন সন্ধ্যা সাতটা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত আমাদেরকে পাহাড়ে চড়তে হয়। এসময় পাহাড়ে চড়ার সময় অনেকে খাদে পড়ে প্রাণও হারায়। দালালরা তাদেরকে উদ্ধারের চেষ্টাও করেনি। এর মধ্যে আবার সীমান্তপ্রহরীরা গুলি চালাতে শুরু করলে তাতেও গুলি খেয়ে অনেকে মারা যায়। কিন্তু মানব পাচারকারীদের পাষাণ হৃদয় তাতে একটুও গলেনি।

Migrants, German, language
A partial view of the refugees learning German language in Bonn. Photo: AH/OV

ডিঙ্গি নৌকায় করে সাগর পাড়ি

মাসুম দেশ ছেড়েছেন চার বছর আগে। আর অনেক বাংলাদেশীর মত তিনিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মধ্যে আটকা পড়ে যান। ভাগ্য ফেরাতে তাই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে চলে এসেছেন জার্মানিতে। শুরুতে যান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ মিশরে। সেখানে ছোটাখাটো একটা কাজ জোগাড় করে নেন। ইতিমধ্যে মিশরের পরিস্থিতি হয়ে উঠে উত্তাল। তাই সেখান থেকে দালালের মাধ্যমে চলে যান মরুভুমি পাড়ি দিয়ে লিবিয়াতে। সেখানে একটি তেল কোম্পানিতে কাজ জোটে। দুই বছর সেখানে কাজ করেন আর বেশ কিছু অর্থকড়ি রোজগার করতে সমর্থ হন। কিন্তু এর মধ্যে লিবিয়াতেও শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। চাকরি তো বটেই নিজের জীবন নিয়েই শঙ্কার মধ্যে পড়ে যায় বহু প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক। তবে দেশে ফিরতে চাননি মাসুম। টাকা পয়সা ধার করে এত কষ্ট করে বিদেশে এসেছেন ভাগ্যের উন্নয়নে। এখন দেশে ফেরত গেলে সব ভেস্তে যাবে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত বছর ইউরোপে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। দালালের হাতে তুলে দিলেন নিজের জমানো টাকা। যেভাবেই হোক সাগড় পাড়ি  দিতে হবে। একবার ওইপাড়ে যেতে পারলে আর কোন চিন্তা নেই, এমনটাই বোঝালো দালাল। তার জন্য বাংলাদেশী ৯০ হাজার টাকাও নেয় তারা। কিন্তু মাসুম জানতেন না কী ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা সামনে অপেক্ষা করছে।

লিবিয়ার বর্ডার থেকে কাঠের একটা বোটে করে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপের ভূমিতে আসেন। মাত্র ৪০ ফুটের মত লম্বা বোটের ইঞ্জিন রুমে ঢুকানো হয় মাসুমকে। মাত্র বিশ ফুট আয়তনের ছোট্ট একটা ইঞ্জিন রুমেই বসানো হয় প্রায় ৭০ জনকে। ‘উপরে কি হইছে তার কিছুই টের পাই নাই ভাই, খালি ইঞ্জিন রুমে বইসা ছিলাম। বোটের ইঞ্জিন রুমে বসার জায়গা নাই। দালালরা জোর কইরা একজনের উপর আরেকজনরে বসাইছে। নড়ার জায়গাও নাই। একরাত একদিন শুধু একটু পানি ছাড়া আর কিছুই পাই নাই। ইঞ্জিন রুমে ঢোকারও কোন দরজা নাই, শুধু ছোট্ট একটা ফুটার মত জায়গা দিয়াই আমাদের সবাইরে জোরাজুরি কইরা ঢুকাইছে’, বলছিলেন মাসুম।

এরপর দালালরা সবাইকে নৌকাতে তুলে দিয়ে তিউনিসিয়ার একজনের হাতে শুধু একটা মানচিত্রের মত কিছু একটা ধরিয়ে দেয় আর সামনে নৌকা চালাতে বলে। ভয়ঙ্কর এই সমুদ্র পথের মধ্যে আবার পুরনো ইঞ্জিনও বিকল হয়ে পড়ে। ভাগ্যক্রমে নৌকায় থাকা ঘানার এক লোক ইঞ্জিনটা আবার ঠিক করতে সমর্থ হয় বলে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়।

‘বোটের কথা শুইনা আমি মনে করছিলাম গ্রামের নৌকার মত কিছু একটা হবে। কিন্তু কিছু বলার উপায় নাই। কিছু বললে ওরা মারে, কাউরে আবার নদীতেও ফালাইয়া দেয়।’ দালালদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানালেন তিনি।  ছয় মাসে চার লাখ টাকার মত দালালদের হাতে তুলে দিয়েছেন মাসুম কেবল ইউরোপে আসার জন্য।

কেবল লিবিয়া নয়, তুরস্ক থেকে একইভাবে ইউরোপে ঢুকেছেন অনেক বাংলাদেশী। তাদের একজন কবির। তিনি জানান, সহকর্মীদের কাছে শুনলাম সিরিয়ার শরণার্থীদের সাথে সহজেই জার্মানিতে যাওয়া যাচ্ছে। এমনকি কি কোন দালালও ধরতে হয় না এই রাস্তায়। একদিন তুরস্কের বদরুন নগরী থেকে নৌকায় করে গ্রীসের একটি দ্বীপে গিয়ে উঠতে হবে বলে খবর পাই। রাবারের ডিঙ্গি নৌকাটাতে বড়জোর চার-পাঁচ জন উঠতে পারবে। কিন্তু এতে দশ জন লোক তুলে দেয়া হয় আর সঙ্গে দুইটা বৈঠা। সমুদ্রের মাঝামাঝি পৌছানো মাত্র নৌকা ফুটো হয়ে গেলে ভেতরের হাওয়া বের হয়ে যায়। সময় তখন ভোররাত / টা হবে। জীবন বাঁচাতে তখন তো সবাই চিৎকার শুরু করে দিয়েছে। কারণ সমুদ্রের  তীর তখন বহুদূর। এই অবস্থাতে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে সমুদ্রের বুকে সাঁতার কেটেছিলাম। এই মরণাপন্ন অবস্থাতে সেখান দিয়ে একটা মাছ ধরা ট্রলার যাচ্ছিল। অথচ আমাদের আর্তচিৎকারে এতোটুকু কর্ণপাত না করেই চলে যায়। অবশ্য খানিক পরে নৌকাটি আবার ফিরে এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যত

কিন্তু এত কষ্ট করে জীবনের ঝুকি নিয়ে ইউরোপে এসে কী পাচ্ছে এসব অদক্ষ জনশক্তি? জার্মানির নিয়মানুযায়ী শরণার্থীদের কাজের অনুমতি নেই, কারণ রাষ্ট্রই তাদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব নেয়। ফলে শরণার্থী সেজে এসব বাংলাদেশীরা জার্মানিতে পা রেখে পড়েছে উভয় সংকটে। একে তো কাজের অনুমতি নেই তাই বৈধ পথে টাকা রোজগারের কোন উপায় নেই। ফলে বাধ্য হয়ে অবৈধভাবে হোটেল রেস্টুরেন্টে তারা গোপনে কাজ করে যাচ্ছে। আর এই সুযোগে অনেক মালিক তাদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করছে। মাসুম দেশে থাকতে প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশ করেছেন। পরে মামার গাড়ির ওয়ার্কশপে কাজ করেন। জার্মানিতে আশ্রয় নেওয়ার পর এখন একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। প্রতিদিন কাজ শেষে রাত দুইটা কখনো তিনটার পর বাসায় ফিরতে হয়। সাড়ে আট/নয় ঘন্টা কাজের বিনিময়ে পান ৬০ ইউরো যা জার্মানির সর্বনিম্ন মজুরির চেয়ে অনেক কম। এভাবে অবৈধভাবে কাজ করে পয়সা রোজগার করলেও সেই অর্থ দেশে পাঠাতে গেলেও আছে ঝককি ঝামেলা। মাসুম জানান, আরেক জনের পাসপোর্ট ব্যবহার করে তাকে দেশে টাকা পাঠাতে হয়। এজন্য তাকে তার মালিক কিংবা পরিচিত কোন বাঙ্গালী দালালের পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়। তার জন্য আবার এক থেকে দেড়শ ইউরো অতিরিক্ত দিতে হয়। শরণার্থী হয়ে আসা এসব বাংলাদেশীরা এভাবে প্রতিনিয়ত ঘাটে ঘাটে মাসুল গুনে যাচ্ছে। অনেকেই ভাবছেন দেশে ফেরত যাবেন। ইউরোপের অন্য দেশেও পাড়ি জমিয়েছেন কেউ কেউ। মাসুমের সাথে শরণার্থী হয়ে আসা জাহিদ ইতিমধ্যে পালিয়ে গ্রিসে চলে গিয়েছেন। শরণার্থী নুর মিয়া, মোফাজ্জল এরা অনেকটাই হতাশ। কারণ যা ভেবে এসেছিলেন দেখছেন বাস্তবতাটা অন্যরকম। সিলেটের সাবেক বাসিন্দা মোফাজ্জল জানান, জার্মান সরকার যদি দেশে পাঠিয়ে দেয় তাহলে দেশেই চলে যাবেন। কিন্তু এভাবে আর থাকা যায় না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে এসে এভাবে বসে থেকে কোন লাভ হচ্ছে না তাদের। সেলিম জানান, তিনি আশা করেছিলেন যে সিরিয়ার শরণার্থীদের সাথে আসলে হয়তো জার্মানিতে বৈধতার একটা কাগজ পাওয়া যাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশীদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার বেশিরভাগ আবেদনই প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কবির এই পর্যন্ত প্রায় ১৫ থেকে বিশ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছেন জার্মানি পর্যন্ত আসতে। অথচ দেশে থাকলে এই টাকা দিয়ে ছোটখাটো কিছু একটা ব্যবসা শুরু করে ফেলা যেতো। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে অনেকটা রাগ করেই বিদেশের পথে পা বাড়িয়েছিলাম। এতগুলো বছর অবৈধভাবে থাকার পরও বৈধ হতে পারবো কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। হবিগঞ্জের সাবেক নিবাসী নুর মিয়া দেশ ছেড়েছেন দুই দশক আগে। উদ্দেশ্য ছিলো যে কোন উপায়ে ইউরোপে আসা। কিন্তু এখন বলছেন, জীবনের এতগুলো সময় মনে হচ্ছে নষ্টই হয়ে গেলো। তাই এখন সবকিছু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। যে কোন মুহুর্তে দেশে ফেরত যাওয়ার শঙ্কা আর স্বীকৃতির অভাব, সব মিলে শরণার্থীদের ভিড়ে জার্মানিতে চলে আসা এসব বাংলাদেশীর জীবন যেন করুণদশার চিত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here