কবিয়াল বিজয় সরকারের ১২৩তম জন্মদিন ২০ ফেব্রুয়ারি

ফরহাদ খান, নড়াইল
একুশে পদকপ্রাপ্ত গীতিকার, সুরকার ও গায়ক কবিয়াল বিজয় সরকারের ১২৩তম জন্মদিন আজ। বিজয় সরকার ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
বাবা নবকৃষ্ণ অধিকারী ও মা হিমালয়া দেবী। বিজয় সরকার নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন, মতান্তরে মেট্রিক পর্যন্ত। তাঁর দুই স্ত্রী বীণাপানি ও প্রমোদা অধিকারী কেউ বেঁচে নেই। দুই ছেলে কাজল ও বাদল অধিকারী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় বসবাস করেন।
বিজয় সরকার একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। ১৮শ‘রও বেশি গান লিখেছেন তিনি। প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কী ঢঙের জন্য ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন। ‘পাগল বিজয়’ হিসেবে সমধিক পরিচিত তিনি। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।
বিজয় সরকার গেয়েছেন ‘তুমি জানো নারে প্রিয়/ তুমি মোর জীবনের সাধনা...।’ ‘পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী/ ওরে একদিন ভাবি নাই মনে/ সে আমারে ভুলবে কেমনে...।’ ‘যেমন আছে এই পৃথিবী / তেমনিই ঠিক রবে/ সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে...।’ এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গান গণমানুষের মুখে মুখে আজও শোনা যায়।
আধ্যাত্মিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিজয় সরকার গেয়েছেন ‘নবী নামের নৌকা গড়/ আল্লাহ নামের পাল খাটাও/ বিসমিল্লাহ বলিয়া মোমিন/ কূলের তরী খুলে দাও...।’ কিংবা ‘আল্লাহ রসূল বল মোমিন/ আল্লাহ রসূল বল/ এবার দূরে ফেলে মায়ার বোঝা/ সোজা পথে চল...।’
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন এর ‘নক্সী কাথার মাঠ’ কাব্যগ্রন্থের নায়ক-নায়িকা ‘রূপাই’ ও ‘সাজু’র প্রেমকাহিনী নিয়ে বিজয় সরকার গেয়েছেন ‘নক্সী কাঁথার মাঠেরে/ সাজুর ব্যাথায় আজো রে বাজে রূপাই মিয়ার বাঁশের বাঁশি...।’ ‘কী সাপে কামড়াইলো আমারে/ ওরে ও সাপুড়িয়ারে/ আ...জ্বলিয়া পুড়িয়া মলেম বিষে’সহ অসংখ্য গান।
বার্ধ্যকজনিত কারণে ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতে পরলোকগমন করেন কবিয়াল বিজয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাঁকে সমাহিত করা হয়। তবে তারুণ্য ও যৌবনের বেশির ভাগ সময় বাংলাদেশ তথা জন্মভূমি ডুমদিতে কাটিয়েছিন তিনি।
জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান জানান, বিজয় সরকারের জন্মদিন উপলক্ষে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিজয়গীতি পরিবেশন, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
What's Your Reaction?






