চালককে হত্যা করে অটোরিক্সা ছিনতাই, চারজন গ্রেফতার

মুসা মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
যাত্রী বেশে অটোরিকশায় উঠে দুইজন। তাদের উদ্দেশ্য গন্তব্যে পৌঁছানো নয়, অটোরিকশা ছিনতাই করা। তাই এক পর্যায়ে চালককে পান করানো হয় বাংলা মদ। তারপর নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে চালককে হত্যা করে ছিনতাই করে অটো রিক্সা। এমন ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
জেলার সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহির নয়ানগর সরকারি সার গোডাউনের দক্ষিণ পার্শ্বে চাঁপাই টু আমনুরাগামী পাঁকা রাস্তার ধারে জনৈক সোনা মিয়ার সরিষা ক্ষেত থেকে এক অটো রিক্সা চালকের মৃতদেহ উদ্ধারের পর এমন ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত দুইজন সহ চারজনকে গ্রেফতার এবং তাদের স্বীকারোক্তিতে অটো রিক্সার খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের পলাশ ১২ ফেব্রুয়ারী রাতে বাড়িতে না ফিরলে পরের দিন পলাশের বাবা লকফর সদর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন।
এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারী বেলা অনুমান সাড়ে এগারোটায় তিনি লোক মুখে সংবাদ পান যে, সদর থানার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহির নয়ানগর সরকারি সার গোডাউনের দক্ষিণ পার্শ্বে রাস্তার ধারে সরিষা ক্ষেতে ১৪/১৫ বছরের ছেলের লাশ পড়ে আছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে তিনি পুলিশ ও তার পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পলাশের লাশ সনাক্ত করে। এসময় তারা ধারণা করে, অজ্ঞাতনামা আসামীরা, পলাশের গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
উক্ত ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে। পুলিশ সুপার বলেন, মামলা হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোয়েন্দা শাখা ও সদর মডেল থানা যৌথভাবে জোর তৎপরতা শুরু করে। পুলিশের একটি চৌকস টিম বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের সহায়তায় ১৫ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী রাজশাহীর মতিহার থানার কাজলা গ্রামের মোঃ জনি (২৪) ও তানোর থানার কলমা গ্রামের মোঃ রকি (৩২) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের দেয়া তথ্য মতে, তানোরের হাতিশাহিল পাড়ার মোঃ জুয়েল (৪০) এবং নওগাঁ জেলার মান্দা হতে মোঃ সানোয়ার হোসেন (২৪) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় জুয়েল ও সানোয়ার হোসেনের ভাঙ্গড়ির দোকান হতে মৃত পলাশের ব্যবহৃত ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সার খণ্ডিত অংশসমূহ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
What's Your Reaction?






