বাকৃবিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে গণ ইফতার আয়োজন
ময়মনসিংহ, ২১ ফেব্রুয়ারি (বাকৃবি প্রতিনিধি/আওয়ার ভয়েস) – বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণ ইফতার মাহফিল ও বিশেষ দোয়া আয়োজন করেছে বাকৃবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ ইফতার মাহফিল আয়োজন করে শাখা শিবির। এ সময় ইফতারে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের দুই হাজার ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে রমজানের মহত্ব ও আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বলেন জানান নেতৃবৃন্দ।
ইফতারের পূর্বমুহূর্তে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির উন্নতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং শিক্ষা ও গণতন্ত্রের অগ্রগতির জন্য দোয়া করা হয়।
এবিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, 'গত বছর রমজানের প্রথম সাত দিন কেন্দ্রীয় মসজিদে ইফতারের আয়োজন করেছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয় রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করেছি। এবার শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। ইফতারে প্রায় আড়াই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রমজানে পরিবারকে সবচাইতে বেশি মিস করে। শিক্ষার্থীরা যেন সেই অভাব বোধ না করে সেজন্যই এ আয়োজন। শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ বাকৃবি ছাত্রশিবির এর আগেও করেছে এবং আগামীতেও করবে ইন-শা-আল্লাহ। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি হল ভিত্তিক এবং ফ্যাকাল্টিভিত্তিক গণ ইফতারের আয়োজন করা। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাতৃত্বের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।'
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু নাছির ত্বোহা বলেন, 'আল্লাহর কাছে অসংখ্য শুকরিয়া এ আয়োজন করার সামর্থ্য আমাদেরকে দিয়েছেন। ২৬০০ শিক্ষার্থী নিয়ে গণ ইফতারের আয়োজন মূলত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার উদ্দেশ্যে। বাকৃবি শিবির সবসময়ই শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করে আসছে এবং আগামীতেও করে যাবে ইন-শা-আল্লাহ। তাকওয়া অর্জনের এই মাসে আমরা সমাজ থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র বিমোচন করে সকলের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে চাই। শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আমাদের এ আয়োজন করা।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের এ আয়োজনের মাধ্যমে আল্লাহর রাসূলের হাদিসকে সামনে রেখে কাজ করতে চাই। সেটা হচ্ছে একটা খেজুর অথবা এক গ্লাস পানি হলেও যাতে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়, অপর ভাইকে ইফতার করানো যায়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা যাতে নিজের ইফতার অন্যের সাথে ভাগ করে সওয়াবের ভাগিদার হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানাই।'
What's Your Reaction?

