বনশ্রীর চাঁদ
- জেবুন নাহার
২৫/০২/২০২৬
বনশ্রীর চাঁদে যেন কখনো গ্রহণ না লাগে!
গ্রহণ না লাগে যেন মতলবের চাঁদেও!
কেননা চাঁদ সওদাগর এখন আর
পুঁথি পালার আসরে নেই,
ঠিকানা পাল্টে মতলব ঘুরে
অবশেষে চির চেনা বনেদি আঁশ ভুলে
সোনালী বজরার বাণিজ্য কাফেলা
চাঁদপুরের বিজন ঘাটে বিসর্জন দিয়েছেন
এবং, জনবহুল এই বনশ্রীতেই
প্রেয়সীর পানি গ্রহণ করেছেন - এ খবর জনশ্রুত হলেও
আমার তাতে কি বা আসে যায়?
আমিতো সেই চাঁদের গায়ে
চাঁদ লাগার আনন্দ উৎসব দিবসের
খোঁজ রাখিনি তখনও, আর
সে উৎসবের খোঁজ রাখিনা এখনও
- এতে কার বা কি আসে যায়?
তবে সত্যিই যদি কিছু আসে বা যায়
তবে বলি শোন, শুধু এটুকু খবর
আমায় যদি পার কেউ দিয়ে যেও-
আজ কি গুরুব-এ-আফতাব
তার পুনরুজ্জীবিত প্রথম কিরণ
গোলার্ধের এ প্রান্তে, পূর্বে
এবং ঈষৎ বিষুবীয় দক্ষিণে
ঘুমন্ত সেই শশীর ললাটে
প্রথম চুম্বন ঠিকঠাক এঁকে দিয়েছে?
আর সেই চুম্বন দীপ্ত শশী
উজ্জ্বল আলোকিত বলয়ে
তার প্রেমার্দ্র চকোরীর আকাঙ্খাকে
করেছে কি ব্যাকুল?
হালকা রূপোলী ও ঈষৎ গোলাপী
জলজোছনার সাদাসালু ঢেকে আজ
ঘুমিয়েছে কি ঘন সবুজ সেই বনশ্রীতল?
যদি আজ এমন একটিও না হয়
তবে যেন রেখো-
আমি সূর্যের উত্তাপকে ঢেকে দেব
নিশ্চিত নিচ্ছিদ্র এক গ্রহণে,
আর আমার দুহাত প্রসারিত করে
আড়াল করে দেব তাকে
অটুট ও অক্ষুন্ন বাহুবন্ধনে!
ভয় নেই, কারো পৃথিবীর জমিনে
বরফের চাষাবাদ আমার উপর নিপতিত নয়!
তবু বলি, শোন, সবার পৃথিবী উষ্ণ হোক, আর্দ্র হোক,
আর বনশ্রীর পূর্ণিমা সবার তরে
চির পবিত্র ও অম্লান হোক!
কেননা আমি তাকে দেখেছি-
ভরাকাটাল সমুদ্রের পূর্ণ অষ্টাদশীতে,
উত্তাল যৌবনা সফেন তরঙ্গরাশির
ব্যাকুল বিহ্বল প্রণয় নিবেদনে,
প্ররোচিত বার্তাবাহী মেঘমল্লারের
বিশ্বস্ত প্রণয় বার্তার উপাখ্যানে!
আমি দেখেছি তাকে
নগরের ক্লান্তিকর কোলাহলে
একনিষ্ঠ প্রেমিকের বেশে,
ক্লেশহীন, ক্লান্তিহীন, রক্তিম গোলাপী আভায়
নির্জন নিহারিকার নিষ্ঠুর নিস্প্রভতা মুছে
অনির্বাণ দ্যুতিময় যেন সে!
আমি তাকে দেখেছি নিখুঁত ও নিগুঢ়
সম্পাদকের কাব্যিক সম্পাদনায়, এবং
প্রিয় প্রবাসী ঔপন্যাসিকের
চরম আধুনিক উপন্যাসের মূখ্য চরিত্রে
তার নতুন ও পরিবর্তিত ঠিকানায়।
What's Your Reaction?

