গোলাপী মুক্ত
- - জেবুন নাহার
২৮.০১.২০২৬
তোকে আমি ছেড়ে যাব
বসন্তের কোন এক দিনে
ছেড়ে যাব--
হয়ত তোর বোধের আগে,
ভোরের প্রথম কিরণ
তোর চোখের পাতা
ছুঁয়ে যাবারও আগে---
কতগুলি বিচ্ছুরিত স্মৃতিকণা
মস্তিষ্কের নিউরণের অতি সূক্ষতায়--
যদি তীব্র যন্ত্রণাদায়ক
কোন অনুভূতিকে অলিন্দের স্পন্দনে প্রবাহিতও করে দেয়
তবু খুব যত্ন করে
বেঁধে দেব তার গতিবিধি,
ভাদ্রের ভরা নদীর দু'কূল ছাপিয়ে ছলকে পড়া নয়ন সীমায়
বসিয়ে দেব জাঁদরেল পাহারাদার
যেন না ভাঙ্গে আগল
চোখের সীমার,
না ভেজে আঁচল
পাঁজর গলার---
তোকে ছেড়ে যাব
খুব সন্তর্পণে,
ছেড়ে যাব--
লোকালয়ের কোলাহলে,
পারিবারিক সামাজিকতায়,
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ প্রণয়াভিভূততার রাতে
শয্যা সঙ্গীর বাহুবন্ধনে
নিতান্ত একা করে--
ছেড়ে যাব তোকে
হাজার পৌষের ভোরের কাছে
পরিত্যক্ত কুহেলীর বিম্বিত
প্রতি ফোঁটা শিশির বিন্দুতে--
কেবল দু'ফোটা অশ্রুর অন্বেষণে,
হাজার ফাল্গুনের মঞ্জুরিত পুষ্পে
আর --
পল্লবীত আলো-আঁধারিতে
সাজিয়ে রাখা রঙের থেকে
এক ফোঁটা রঙ
ভালোবাসার
কুড়িয়ে নিয়েও হারিয়ে ফেলার
অব্যক্ত স্বীকৃতিতে--
তোকে ছেড়ে যাব
হারিয়ে ফেলার ভয়ে!
তোর গোলাপী আভায়
হারিয়ে যাওয়া মন নিয়ে
ব্যাতিব্যস্ত থাকার আকাঙ্খায়
হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপের
নির্বিকার নিস্তব্ধ সাঁঝে--
এক সুতায় বাঁধা অকপট
ধারাবাহিক বুননে
অস্তমিত অংশুমালীর
ললাটে যুগলবন্দী চিহ্ন
এঁকে দেবার প্রত্যাশায়--
তোকে রেখে যাব ছেঁড়া মেঘের
পেঁজা মখমলের ভাঁজে
স্মৃতির শিউলি শাখায় গুঁজে--
গুঞ্জরিত ভ্রমরের দিকভ্রান্ত
পরিভ্রমণ শেষে মুহূর্তের দৃঢ়তায়
একনিষ্ঠ চাতকের তপস্বার শিষ্যত্ব আস্বাদনে—
সুধিজন পরিবেষ্টিত সভায়
অকস্মাৎ উল্টেপড়া
চায়ের কাপের ছিটে ফোঁটা উত্তাপের বাদামী রঙে নয়,
ভালোবাসার পুরোদস্তুর গোলাপ রঙে রাঙাবো বলে—
নেশাতুর পরিব্রাজকের একক মৌন মিছিলে
অগ্রদূতের একান্ত বরমাল্য সম্প্রদানের উৎসবে
অদ্বিতীয় ঘোষণার উপলক্ষ্যে—
তোকে আমি রেখে যাব
গন্তব্যরূপে আকাশের বুকে
মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকা
হিমাদ্রির শিহরণে—
সপ্তপদী স্বেতশুভ্র ষষ্টকের
একমাত্র গোলাপী মুক্ত!!
What's Your Reaction?

