এএমআর ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় 'ক্লাইমেট-স্মার্ট' কৌশল

Mar 6, 2026 - 12:49
 0  68
এএমআর ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় 'ক্লাইমেট-স্মার্ট' কৌশল
ছবিঃ প্রতিনিধি/ওভি

ময়মনসিংহ, মার্চ (বাকৃবি প্রতিনিধি/আওয়ার ভয়েস) বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, যা পশুপালন ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ঠেলে দিচ্ছে চরম ঝুঁকির মুখে। এই জটিল ও আন্তঃসম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্লাইমেট-স্মার্টবা জলবায়ু-সহিষ্ণু কৌশল উদ্ভাবনে নতুন একটি গবেষণা প্রকল্প শুরু করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এক ইনসেপশন কর্মশালার মাধ্যমে এই গবেষণার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ওয়ান হেলথ কাঠামোর মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ পরিবেশ ব্যবস্থায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলা ও খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষায় ক্লাইমেট-স্মার্ট কৌশলশীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগ।

বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হিটপ্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণাটি ২০২৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে প্রাণিসম্পদের মাধ্যমে মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে এএমআর এবং ভারী ধাতব দূষণ ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে উদঘাটন করা।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান ব্যবস্থাপক ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমূদুল হাসান শিকদার। তিনি বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার কারণে খামার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসছে, যা রোগজীবাণুর ধরন বদলে দিচ্ছে। এর ফলে খামারিরা অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার করছেন, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মানবদেহে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রকল্প কেবল সমস্যার গভীরে যাবে না, বরং টেকসই সমাধানও খুঁজবে। গবেষণার অংশ হিসেবে উদ্ভাবন করা হবে ক্লাইমেট-স্মার্টপ্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত বায়োসিকিউরিটি যা খামারে জীবাণুর প্রবেশ ঠেকাতে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিকল্প চিকিৎসা অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে প্রোবায়োটিক ও উদ্ভিদজাত (হার্বাল) ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রাণিজ বর্জ্য থেকে পরিবেশে জীবাণু ছড়িয়ে পড়া রোধে কার্যকর মডেল তৈরি।

ইনসেপশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গবেষণার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায় থেকেই গবেষণামুখী করে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দক্ষ ভূমিকা রাখতে পারে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়ান হেলথবা এক স্বাস্থ্য ধারণার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের পরিপূরক। একটির বিপর্যয় অন্য দুটিকে ঝুঁকিতে ফেলে।

ফার্মাকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান এবং বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান।

গবেষক দল আশা করছেন, ২০২৮ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল দেশের প্রাণিসম্পদ নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সামলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

News Desk Chief Editor, Our Voice Online