বাকৃবিতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জীববিজ্ঞান উৎসব

Apr 26, 2026 - 23:57
 0  54
বাকৃবিতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জীববিজ্ঞান উৎসব
ছবিঃ প্রতিনিধি/ওভি

​​ময়মনসিংহ, এপ্রিল (বাকৃবি প্রতিনিধি/আওয়ার ভয়েস) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড-২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহ অঞ্চলের জীববিজ্ঞান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার আঞ্চলিক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সবিবুল হক জানান, এ বছরের ৩৭তম জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে মোট চারজন প্রতিযোগী এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে আর তাদের বাছাই করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মোট ১১টি অঞ্চলে প্রতিযোগিতা আয়োজিত হচ্ছে। আঞ্চলিক, জাতীয় এবং এরপর বায়োক্যাম্প করার মাধ্যমে চারজন প্রতিযোগী চূড়ান্ত অর্থাৎ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী ফরহাদ কাদির। আরও উপস্থিত ছিলেন ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ. খ. ম. গোলাম সারওয়ার, অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. সোনিয়া সেহেলী প্রমুখ।

প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়ে অধ্যাপক ড. মো. সবিবুল হক জানান, বাকৃবিতে মোট ৭টি কক্ষে সকাল ১০টা থেকে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের আওতাভুক্ত বিভিন্ন জেলার (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ) বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেছেন। জুনিয়র (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী), সেকেন্ডারি (৯ম থেকে ১০ম) এবং হায়ার সেকেন্ডারি (একাদশ থেকে দ্বাদশ) এই মোট তিনটি ক্যাটাগরির প্রতিটিতে সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত ২০ শতাংশ প্রতিযোগী জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, আমাদের জীবনের সাথে যে রহস্যগুলো জড়িয়ে আছে সেটি উদঘাটন করা সম্ভব জীববিজ্ঞানের জ্ঞানের মাধ্যমে। এখানে উপস্থিত স্কুল-কলের শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞানের হাতেখড়ি হয়েছে হয়ত একটি পাতা, গাছের মূল বা ফুল দিয়ে। তবে জীববিজ্ঞান আরও অনেক দূর পৌপৌঁছে গেছে এখন। বাহ্যিক বস্তুর পাশাপাশি যা খালি চোখে দেখা অসম্ভব সেখানেও বিস্তর প্রভাব জীববিজ্ঞানের। জীবের অভ্যন্তরীণ একটি অতিক্ষুদ্র অংশ হলো ডিএনএ বা জিনোম যেটিকে জীবনের মূল বলা হয়। জীববিজ্ঞানের কল্যাণে আজ সে ক্ষুদ্র অংশেও পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বায়োটেকনোলজি, বায়োইনফরমেটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে জীনের সংযোজন, বিয়োজনের মাধ্যমে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসা হচ্ছে। ফসলের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বৈশ্বিক এই জলবায়ুগত পরির্তনের প্রভাবকে মোকাবিলা করতে পারে এমন সব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসা প্রয়োজন এবং সে লক্ষ্যেই গবেষণাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। আর এই গবেষণার বীজ ছোটোদের মাঝে বপন করতেই জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আয়োজন। আমি আশা করছি আজকের এই শিক্ষার্থীরা আগামীতে জীববিজ্ঞানের গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সুন্দর দেশ ও সুন্দর পৃথিবী উপহার দেবে।

প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় পর্যায়ের জন্য বাছাই হওয়া প্রতিযোগীদেরকে সনদপত্র প্রদান করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

News Desk Chief Editor, Our Voice Online