ডাফব এর উদ্যোগে বন বোটানিক্যাল গার্ডেনে শিশুদের শিক্ষাসফর
বন, ২২ মে (আওয়ার ভয়েস): চোখ জুড়ানো রঙিন গোলাপের বাগান, বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ আর রোদে গা সেঁকানো চঞ্চল টিকটিকির দল, সব মিলিয়ে এক চমৎকার বসন্তের সকালে বন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছিল শিশুদের কলকাকলিতে।
‘জার্মান ওয়ার্কিং কমিউনিটি ফর বাংলাদেশ’ (ডাফব)-এর উদ্যোগে ৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রথম শিক্ষাসফরটি পরিণত হয়েছিল এক রোমাঞ্চকর জ্ঞানার্জনের যাত্রায়।
বাগানে পা রাখতেই পাথরের ওপর রোদ পোহানো রঙিন টিকটিকিগুলো ছোট ছোট শিশুদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। তবে বিনোদনের পাশাপাশি সফরের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশ শিক্ষা। সুগন্ধি গোলাপের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি শিশুরা মৌমাছিদের মধু সংগ্রহের ব্যস্ততা প্রত্যক্ষ করে। এখান থেকেই গাইডরা জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরাগায়নকারীদের ভূমিকা সহজ ভাষায় শিশুদের সামনে তুলে ধরেন। ১০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারী ‘জান্নাত’ আনন্দ প্রকাশ করে বলে, "পুকুরের সুন্দর ও রঙিন মাছগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে।"
বৈশ্বিক জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন ভাবনা
সফরের পরবর্তী ধাপে শিশুরা প্রবেশ করে বোটানিক্যাল গার্ডেনের ঐতিহাসিক গ্রিনহাউসগুলোতে। বইয়ের পাতায় দেখা ট্রপিকাল অঞ্চলের বিশাল কলাগাছ আর বড় বড় ফলসহ কোকো গাছ সরাসরি দেখে তাদের চোখ বিস্ময়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
এই কোকো গাছটিকে কেন্দ্র করেই শিশুদের সাথে টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক ন্যায্য বাণিজ্য নিয়ে এক চমৎকার আলোচনা জমে ওঠে। জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সমর্থন জানিয়ে ডাফব শিশুদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধের ধারণা দেয়। বিশেষ করে এসডিজি ৮ (শোভন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) এবং এসডিজি ১০ (অসমতা হ্রাস)-এর আলোকে তারা শেখে যে, চকলেটের মতো সুস্বাদু খাবারের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে প্রান্তিক চাষীদের ন্যায্য মজুরি ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আগামীর প্রত্যাশা
বোটানিক্যাল গার্ডেনের বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ একেক বয়সী শিশুকে একেকভাবে মুগ্ধ করেছে। বড়দের আগ্রহের কেন্দ্রে যেখানে ছিল মাংসাশী উদ্ভিদের শিকার কৌশল, সেখানে মেয়েরা প্রসাধন সামগ্রীতে ব্যবহৃত পরিচিত ‘অ্যালোভেরা’ গাছটি নিজে চিনে নিতে পেরে দারুণ আনন্দ পায়।
আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তিন ঘণ্টার এই সফল সফরটি যেন নিমেষেই শেষ হয়ে যায়। ডাফব জানিয়েছে, প্রথম আয়োজনের এই দারুণ সফলতার পর তারা ইতিমধ্যেই পরবর্তী শিক্ষাসফরের প্রস্তুতি শুরু করেছে, যেখানে শিশুদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন ব্যবহারিক উদ্ভিদের বাগান ঘুরে দেখা হবে।
What's Your Reaction?

