ছাত্রদল নেতা মারধরের ২৩ দিনেও জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন
ময়মনসিংহ, ১৫ মে (বাকৃবি প্রতিনিধি/আওয়ার ভয়েস) – দীর্ঘ ২৩ দিন পার হলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যকে মারধরের ঘটনার তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি এখনো।
এতে হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় সময় অতিবাহিত করছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। জানা যায়, ২০ এপ্রিল দুপুরে হাসিবুল হাসান কৌশিক নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠে ঈশা খাঁ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। পরে ওই ঘটনার তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও কৃষি অনুষদের ৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
গঠিত তিন সদস্যের ওই তদন্ত কমিটির আহবায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, সদস্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক এবং সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়াকে।
তদন্ত কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয় কিন্তু দীর্ঘ ২৩ দিন অতিবাহিত হলেও প্রতিবেদন এখনো আলোর মুখ দেখেনি। যা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ন্যায় বিচার না পাওয়ার শঙ্কা তৈরি করছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান কৌশিক বলেন, প্রশাসন আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে হামলার ৩ দিনের মধ্যেই অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে। কিন্তু প্রায় ২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। এতে আমি এবং আমার সহপাঠীরা গভীরভাবে আশাহত। ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ২৩ দিন অতিক্রান্ত হলেও এখনো পর্যন্ত উক্ত তদন্তের কোনো দৃশ্যমান রিপোর্ট আমি পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমি অত্যন্ত হতাশ।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে বিচারের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তাদের উপর ন্যস্ত করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান না পাওয়ায় আমি আবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আশা করি দায়িত্বশীল প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনবে।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য-সচিব মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “আমাদের কার্যপরিধির মধ্যে যতটুকু কাজ করার ছিল, তা আমরা সম্পন্ন করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন আগামী দুই বা এক দিনের মধ্যেই জমা দেওয়া হবে। এর মধ্যে চার দিন ভর্তি কার্যক্রম চলায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ ছিল। পরে আমরা বাকি কার্যক্রমও সম্পন্ন করেছি। ঘটনার আট দিনের মধ্যেই তদন্তের মূল কাজ শেষ করা হয়েছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন জমা দেওয়াই বাকি রয়েছে।”
What's Your Reaction?

