লন্ডনে নির্মূল কমিটির উদ্যেগে গণহত্যা দিবস পালিত
ডঃ আনসার আহমেদ উল্লাহ
লন্ডনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যেগে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় গণহত্যা দিবস।
শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশ। ৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় এবং শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর দিবসটি পালন করে আসছে নির্মূল কমিটি।
আলোর সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসর আলবদর-রাজাকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে সবচেয়ে বড় গণহত্যা সংঘটিত করে। হত্যা করে ৩০ লাখ বাঙালি নারী-পুরুষ, সম্ভ্রম হানী করে কয়েক লক্ষ বাঙালি নারীর। একাত্তরের ২৫ মার্চ ঢাকায় প্রথম প্রহরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক থেকে পুলিশ, ইপিআর, সাধারণ নারী-পুরুষ সহ হত্যা করে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। পাকিস্তানিদের এই সব কলংকিত ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।
বক্তারা বলেন , বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের দূর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধের গৌরবান্বিত মিমাংসিত বিষয়টি বারবার বাংলাদেশে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে পারিনি।
একাত্তরের রাজাকার, আল বদর, আল সামস ও তাদের পরবর্তী প্রজন্ম বারবার মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও আমাদের ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা করে চলছে। বাংলাদেশ যে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, সেই ভিত্তিকে ভেঙেচুরে একটা বিকৃত ইতিহাস বিনির্মাণের চেষ্টা করছে প্রতিনিয়ত। ইতিহাসের নির্মম সত্য হচ্ছে ইতিহাস তার আপন মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সেই সত্যকে বহন করা। ৭১ এর ২৫ আগস্ট শুধু গণহত্যা নয়, আমাদের প্রতিরোধ যুদ্ধের ও গর্বিত ঘটনা। ২৫ এর কালো রাতে বাঙালিরা নিজেদের অবস্থান থেকেই পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধের সূচনা করেছিল।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সভপতি সৈয়দ এনাম ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রাজের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌছ সুলতান ও যুক্তরাজ্যে বাঙালি কমিউনিটির আন্দোলন সংগ্রামের সংগঠক বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য কমিটির উপদেষ্টা হরমুজ আলী, মানবাধিকার কর্মী আহাদ চৌধুরী। সমাপনি বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি জামাল আহমদ খান।
সমাবেশে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ন সম্পাদক শাহ মুস্তাফিজুর রহমান বেলাল, হাসনিন বেগম, ড. আনিসুর রহমান আনিস, কবি ছড়াকার হেলাল সাঈফ, শাহব উদ্দিন বাচ্চু, এডভোকেট আল আমিন সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
What's Your Reaction?

