রাজশাহীতে শব্দ দূষণ পরিমাপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ

Apr 6, 2026 - 06:58
 0  68
রাজশাহীতে শব্দ দূষণ পরিমাপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ
ছবিঃ মোঃ ওবায়দুল্লাহ, ফটো জার্নালিস্ট, রাজশাহী/ওভি

রাজশাহী, ৫ এপ্রিল (বিশেষ প্রতিনিধি/আওয়ার ভয়েস): নগরায়নের যুগে শব্দ দূষণ দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে, যা আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দের জন্য মানুষের শ্রবণ শক্তি হ্রাস পায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, ঘুম অনিয়মিত হয়, রক্ত চাপ বাড়িয়ে দেয়, হার্টের ক্ষতি করে, এমনকি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস পেতে পারে।

জাতিসংঘের প্রবেশ কর্মসূচীর ২০২২ সালের এক রিপোর্টে ঢাকাকে বিশ্বের প্রথম এবং রাজশাহীকে বিশ্বের চতুর্থ শব্দ দূষণকারী শহর হিসেবে দেখানো হয়। যেখানে রাজশাহীতে শব্দের পরিমান দেখানো হয় ১০৩ ডেসিবেল। এই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে বারিন্দ এনভায়রনমেন্ট এর সহযোগিতায় শনিবার পরিবেশ বান্ধব শহর রাজশাহীর অন্যতম ব্যস্ততম স্থান রেইলগেটে শব্দের বিদ্যমান অবস্থা নির্ণয় করা হয়।

শহরের রেইলগেইটের মতো জনবহুল স্থানে দিনের বেলা নগরীর ব্যাস্ততম সময়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ২০২২ সাল হতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একই স্থানে শব্দের মান নির্ণয় করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় শনিবার একই স্থানে শব্দের মান নির্ণয় করা হয়। উক্ত পরীক্ষায় নেতৃত্ব দে প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন খান (পিএইচডি)। উনাকে সহযোগিতা করেন ড. অলি আহমেদ, শামসুর রাহমান শরীফ, মোঃ ওবায়দুল্লাহ, রুমানা আহমেদ, ইফাত আরা, কলি আহমেদ, আবু তারেক বিন আজিজ, রুহুল হাসান পলাশ প্রমুখ। উল্লেখ্য, উক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিগত বছরগুলোতে শব্দের মান পরীক্ষার পাশাপাশি শব্দ দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন সময় নগরীতে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে এবং মানববন্ধন করেছে। ব্যাস্ততম সময়ে দিনের বেলা রেইলগেটে সকাল ১১টা থেকে ১১:৩০টা পর্যন্ত গড়শব্দ সর্বোচ্চ পাওয়া গিয়েছে ১০০.৫ ডেসিবেল, এবং বিকেল ৩টা থেকে ৩:৩০টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ গড় ১০৩.৭ ডেসিবেল। গত বছর সর্বোচ্চ গড় শব্দ পাওয়া যায় ৯৭.০০ ডেসিবেল। আরো উল্লেখ্য, ২০২২ সালে গড় মাত্রা পাওয়া গিয়েছিল ৯০.০০ ডেসিবেল, ২০২৩ সালে পাওয়া গিয়েছিল ৯০.০০ ডেসিবেল, এবং ২০২৪ সালে ৯৬ ডেসিবেল। যেখানে বাংলাদেশের শব্দ দূষণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, বাণিজ্যিক এলাকায় সহনীয় মাত্রা দিনের বেলা৭০.০০ ডেসিবেল। বাংলাদেশের শব্দ দূষণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ শব্দের ঘনমাত্রার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন এলাকাকে পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে; নীরব এলাকা, আবাসিক এলাকা, মিশ্র এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা এবং শিল্প এলাকা। শনিবার নগরীর শব্দের মান পরীক্ষা করা রেইলগেট বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে পড়ে

প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শব্দ দূষণের মূল কারণ ও এর সম্ভাব্য প্রতিকারের বিষয়ে বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করা হয়। শব্দ দূষণ যুক্ত এলাকায় উক্ত পরীক্ষার সময় ব্যাটারি চালিত অটো এবং অটো রিকশার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দৃশ্যমান ছিল। অধিকাংশ যানবাহন অযথা হর্ন বাজাতে থাকে। বর্তমানে রাজশাহীতে উলেখযোগ্য পরিমা ব্যাটারি চালিত অটো এবং অটো রিকশা বিদ্যমান। এগুলো মূলত টিটি হর্ন ব্যবহার করে। এছাড়া রেলগেটে এলাকা বাস গুলোকে অযথা যত্রতত্র হর্ন বাজাতে দেখা যায়। বাংলাদেশের শব্দের নীতিমালা অনুযায়ী, ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দিবাকালীন সময়। অটো রিক্সা গুলোতে ভেপু হর্ন বাধ্যতামূলক করা উচিত, যেন অন্য কোনো হর্ন ব্যবহার করতে না পারে। একই সাথে অটো রিক্সা আর রিক্সা গুলো নির্দিষ্ট লেন ব্যবহার করলে এবং বাস গুলো যত্রতত্র না দাঁড়ালে কিন্তু অন্য গাড়ি গুলোকে অহেতুক হর্ন দেয়া লাগে না। শহরের মধ্যে গতি সীমাও নির্দিষ্ট করলে এর পরোক্ষ প্রভাব শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপর পড়বে। শব্দ দূষণের প্রভাব শুধু মানুষের উপর না, প্রতিটি পশু-পাখির উপর পড়ে। গাছ শব্দের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে যথেষ্ট কার্যকর। আমের শহর রাজশাহীতে আম-জাম জাতীয় ফলের গাছ, নিম, সজনে জাতীয় উপকারী গাছ লাগানো যেতে পারে; যেগুলো বড় হলে শব্দ ও বায়ু দূষণ রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। সজনে গাছ বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন নির্গমনে কার্যকর গাছগুলোর মধ্যে অন্যতম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

News Desk Chief Editor, Our Voice Online