নড়াইলে সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি পেশাজীবীদের
নড়াইল, ২১ এপ্রিল (জেলা প্রতিনিধি/আওয়ার ভয়েস) – নড়াইলে সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিক, গবেষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কৃষক মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠানে শনিবার আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যোগে নড়াইল সদরের বিছালী এলাকায় ঘরামি ঘর চত্বরে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান।
সভাপতিত্ব করেন অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদের চেয়ারম্যান, সাপ্তাহিক সোনালী দিন পত্রিকার সম্পাদক ও নজরুল গবেষক এইচ এম সিরাজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন ঈশা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর সিটি কলেজের অধ্যাপক ড. সবুজ শামীম আহসান, যশোর ভবদহ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মতলব সরদার, কৃষ্টিবন্ধন যশোরের সাধারণ সম্পাদক কবি এম এ কাশেম অমিয়, বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঘরামি ঘরের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার মোল্যা, অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন সেলিম, নড়াইল জেলা সংসদের সভাপতি কল্যাণ মুখার্জি, পাচারের শিকার মানব উদ্ধার সংস্থার চেয়ারম্যান কবি সৈয়দ খায়রুল আলম, নড়াইল কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক উজির আলী, কবি ও গীতিকার আব্দুল হান্নান, সাংবাদিক জিয়াউর রহমান জামি, ঘরামি ঘরের যুগ্মসম্পাদক কবি তৃপ্তি রানী বিশ্বাসসহ অনেকে।
জারি, বাউল ও বিচ্ছেদ গান পরিবেশন করেন শিল্পী নাজমুল ইসলাম বয়াতি, শামীম হোসেন বয়াতি ও শিশুশিল্পী সামিউল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, নড়াইল জেলা ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ হলেও উন্নয়নের ধারায় বেশ অবহেলিত। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থায়। নড়াইল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, চারণকবি বিজয় সরকার, জারিসম্রাট মোসলেম উদ্দিন, ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্ত, নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর, সেতারবাদক রবি শংকর, নজরুল সঙ্গীতের সুরকার কমল দাশ গুপ্তসহ অনেক গুণীজনের জন্মস্থান। এইসব গুণীজনের পূণ্যভূমিতে ‘নড়াইল সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপন এখন সময়ের দাবি।
এছাড়া ‘পদ্মা সেতু' এবং দেশের প্রথম ছয় লেনের ‘মধুমতি সেতু’ নির্মাণের ফলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নড়াইলে সড়ক পথে বেনাপোল, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। ফলে নড়াইলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে শিক্ষার্থীরা সহজে পড়ালেখা করতে পারবেন।
What's Your Reaction?

