উজানের ঢলে ডুবছে সোনালী স্বপ্ন, শ্রমিক সংকটে হাহাকার
মুসা মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
হাড়ভাঙা খাটুনি আর ধার-দেনা করে ফলানো সোনার ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কৃষকরা।
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি পূর্ণভবা নদী দিয়ে প্রবল বেগে প্রবেশ করে একের পর এক বিল প্লাবিত করছে। সীমান্তবর্তী বিল তিলনা, তিলকুচ, সুখডোবা ও গুমরোহিল এখন হাহাকারের জনপদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে ঈশ্বরপুরগঞ্জ ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত কৃষক প্রাণপণ চেষ্টা করছেন ধান রক্ষায়। বিলে পানি ঢোকা ঠেকাতে বিশাল এলাকাজুড়ে অস্থায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেঙে যায়। এতে প্রায় একশ‘ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।
এরই মধ্যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে তীব্র শ্রমিক সংকট। একসঙ্গে ধান কাটার চাপে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক ধান কাটতে পারছেন না।
কৃষক বাবর আলী বলেন, “এক বিঘা জমির ধান কোনোমতে বাড়িতে তুলেছি। ১৫ বিঘার ধান কাটার পরও জমিতেই পড়ে আছে। শ্রমিক জনপ্রতি এক হাজার টাকা দিতে হচ্ছে, তার ওপর নৌকা ভাড়া। লাভের আশা ছেড়ে দিয়ে এখন পুঁজিটা বাঁচানোর চেষ্টা করছি।”
তিন ভাই মিলে ২৫ বিঘা জমিতে আবাদ করা কৃষক আলমগীর বলেন, “ধান পুরো পাকেনি, তবুও পানির ভয়ে ৫ বিঘা জমির আধাপাকা ধান কাটতে হয়েছে। বাকিগুলো কাটার মতো শ্রমিক পাচ্ছি না। আমরা এখন দিশেহারা।”
কৃষক আজম ফারুক বলেন, “২০২২ সালের বন্যায় বড় লোকসান হয়েছিল। এবারও সেই আশঙ্কা সামনে। আমাদের বিল কুজাইন ঘাট ও চন্দের বিলে এখনো অধিকাংশ ধান কাটা বাকি।”
একই এলাকার কৃষক জুয়েল রানা বলেন, “ত্রিশ বিঘা জমির ধান এখনো মাঠেই আছে। এরই মধ্যে আড়াই বিঘা পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক না থাকায় ধান তুলতে পারছি না। আমরা খুব অসহায়।”
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে এখনো প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বিঘা জমির ধান অবশিষ্ট রয়েছে। পানি আরও বাড়লে এই বিপুল পরিমাণ ফসল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। কৃষকরা নিজ উদ্যোগে ভেকু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করলেও তা টিকেনি।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”
What's Your Reaction?

