বাকৃবিতে চতুর্দশতম বারের মতো বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন

Jun 12, 2026 - 09:34
 0  4
বাকৃবিতে চতুর্দশতম বারের মতো বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন
ছবিঃ প্রতিনিধি/ওভি

​​ময়মনসিংহ, ১০ জুন (বাকৃবি প্রতিনিধি/আওয়ার ভয়েস) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) চতুর্দশতম বারের মতো বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

দিবসটি উদযাপনে এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল দুগ্ধশিল্পে নারী কৃষকদের অবদান উদযাপন। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের আটটি বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে দুধ পান করানো হয়। একই সঙ্গে দুগ্ধশিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো একজন নারী দুগ্ধ খামারি ও একজন নারী দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোক্তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দুগ্ধশিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

সকালে অ্যানিমেল হাজবেড্রি অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, দুগ্ধ খামারি ও বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পদক্ষিণ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়।

রে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। এরপর দুপুরে ওই অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতামূলক সেমিনার ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে বাকৃবির ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য  অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান।  
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  মো. সাইফুর রহমান, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ইলিয়াস মৃধা এবং নেসলে বাংলাদেশের রেগুলেটরি অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাফেয়ার্সের প্রধান রেবেকা শারমিন।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এম. এ. সামাদ খান, অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড রায়হান হাবিব এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাসুম।

এসময় সম্মাননাপ্রাপ্ত দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোক্তা উম্মে আতিয়া বলেন, 'প্রায় ৬ বছর ধরে বগুড়ায় নিজস্ব উদ্যোগে দুগ্ধজাত পন্যের একটি কারখানা নিয়ে কাজ করছি। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৪ মন দুধ থেকে মিষ্টি, ছানা ও দই তৈরি করি আমরা। খামারিদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করার পর সেটিকে পাস্তুরিত করে এসকল পণ্য তৈরী করা হয়। এই প্রথম কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এভাবে সম্মাননা পেলাম। কাজের স্বীকৃতি আমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।'

সম্মাননাপ্রাপ্ত আরেক খামারি জনি আক্তার বলেন, 'আমার বাড়িতে মোট ১৫টি গরুর দেখাশোনা করি। প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। গরুর দেখাশোনা থেকে শুরু করে দুগ্ধ দোহন ও বিক্রি সবই একহাতে করি। গ্রামের এক প্রান্তিক খামারি হিসেবে এভাবে সম্মাননা পাবো এটা কখনও ভাবিনি। খুবই ভালো লাগছে।'

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, প্রথমেই আমি ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য। এতে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আজকের অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। কেননা দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাদের অবদান অস্বীকার করে দেশ, জাতি এগিয়ে যেতে পারবে না। দেশের দুগ্ধ শিল্পের উন্নতিতে উৎপাদন বাড়াতে কাজ করতে হবে, একই সাথে প্রান্তিক খামারিদের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। আজকে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান সহায়তা করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে আগের দিন শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও হোম কিচেন ডেইরি রেসিপি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

News Desk Chief Editor, Our Voice Online