বেকারি পণ্যে সবজি ফ্লেক্স সংযোজনে বাকৃবিতে গবেষণা

Feb 26, 2026 - 20:28
 0  65
বেকারি পণ্যে সবজি ফ্লেক্স সংযোজনে বাকৃবিতে গবেষণা
ছবিঃ প্রতিনিধি/ওভি

ময়মনসিংহ, ফেব্রুয়ারি (বাকৃবি প্রতিনিধি/আওয়ার ভয়েস) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বেকারি পণ্যে সবজি ফ্লেক্স (শুকনা বা গুড়া করা সবজি) সংযোজনের মাধ্যমে পুষ্টিমান বৃদ্ধি এবং তা বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুর হয়েছে।

গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিকে শিল্পখাতে পৌঁছে দিয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা শুরু হয়েছে। বৃস্পতিবার 'ভেজিটেবল ফ্লেক্স ফর বেকড প্রোডাক্টস ফর্টিফিকেশন: বিএইউ-আইএফএডি কোলাবোরেশন ফর ইটস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশনশীর্ষক কর্মশালার মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদী এ গবেষণার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ সূচনা কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলজারুল আজিজ। এসময় তিনি বলেন, শুধুমাত্র বেকারি পণ্যের জন্য বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ১০০ মেট্রিক টন সবজি ফ্লেক্স আমদানি করে। দেশে উৎপাদিত পুষ্টিকর সবজি মৌসুমে উদ্বৃত্ত থাকলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এর বড় অংশ অপচয় হয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে এসব সবজি শুকিয়ে ফ্লেক্সে রূপান্তর করা গেলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যে তা সংযোজন করে ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য তৈরি করা যাবে। এতে করে সবজি ফ্লেক্স আমদানির পরিমাণও কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় উপযোগী সবজি নির্বাচন, মানসম্মত প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ এবং বেকারি পণ্যে গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে শিল্পখাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাজারজাতকরণের কৌশল প্রণয়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা এবং ইফাদ মাল্টি প্রডাক্ট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন মন্ডল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা শেষে অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে গবেষণার বিষয়বস্তু নিয়ে মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 

উপাচার্যের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতিতে এবং উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার উন্নয়নে গবেষণাই মূল চালিকাশক্তি। এখন থেকে সর্বোচ্চ বাজেট সংগ্রহ করে যে গবেষক মানসম্মত ও পরিশ্রমনির্ভর কাজ করবেন, তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, গবেষণা করার আনন্দ যে অধ্যাপক একবার উপভোগ করেছেন তিনি গবেষণা ছাড়া থাকতে পারেন না। গবেষণাকে কেবল একাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে তা শিল্প ও বানিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তবে তার আগে ক্লাস-পরীক্ষার দিকে শিক্ষকদের গুরুত্ব দিতে হবে। কোন শিক্ষার্থীকে যাতে ক্লাসের বা রেজাল্টের জন্য বসে থাকতে না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

News Desk Chief Editor, Our Voice Online