এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পিঠা উৎসব
মুসা মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
মঙ্গলবার শহরের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
পিঠা উৎসবে শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় বিভিন্ন স্টল অংশগ্রহণ করে। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক দেশীয় পিঠা তৈরি ও বিক্রি করা হয়। গ্রামীণ ঐতিহ্য ও শেকড়ের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উৎসবে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী মিঠা ও ঝাল পিঠার সমাহার দেখা যায়, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
স্টল পরিচালনাকারী শিক্ষার্থী সাবরিনা সুনতা রিয়া বলেন, পিঠা উৎসবে স্টল দিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। নিজের হাতে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করে দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এ ধরনের উৎসবের মাধ্যমে আমরা শুধু পিঠা বানানোই নয়, বরং বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারছি।
অন্য এক স্টল উদ্যোক্তা রওনোক জাহান বর্ষা বলেন, আমাদের স্টলে প্রায় ৩৫ ধরনের মিঠা পিঠার আয়োজন করা হয়েছে। পিঠা শুধু একটি খাবার নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। সময়ের পরিবর্তনে অনেক ঐতিহ্যবাহী খাবার আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে পিঠা উৎসবের মাধ্যমে সেই হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ পিঠাগুলো আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। নিজের হাতে পিঠা তৈরি করে এই উৎসবে অংশ নিতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত।
পিঠা উৎসবে স্টল পরিদর্শনকালে এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ সফিকুল বারি বলেন, এই পিঠা উৎসবের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মকে দাদি-নানীদের সময়কার ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিটি স্টলে ৩৫টিরও বেশি ধরনের পিঠা প্রস্তুত করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজন আরও হলে নতুন প্রজন্ম বাঙালির শেকড়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হবে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম বাঙালির নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে পারে।
What's Your Reaction?

