ফসলের সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকারী হবে সামুদ্রিক শৈবাল 

Jan 9, 2026 - 05:19
 0  94
ফসলের সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকারী হবে সামুদ্রিক শৈবাল 
ছবিঃ প্রতিনিধি/ওভি

ময়মনসিংহ, জানুয়ারি (বাকৃবি প্রতিনিধি/আওয়ার ভয়েস) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের কৃষি জমি দিন দিন প্রতিকূল হয়ে উঠছে।

লবণাক্ততা, খরা ও তাপমাত্রা জনিত চাপের কারণে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই সমাধান খুঁজতে সামুদ্রিক শৈবালভিত্তিক বায়োস্টিমুল্যান্ট নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অজৈব চাপ মোকাবিলায় ফসলের সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সামুদ্রিক শৈবালভিত্তিক বায়োস্টিমুল্যান্ট ব্যবহারের পরিবেশ বান্ধব কৌশলশীর্ষক এক উদ্ভাবনী কর্মশালায় এই গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

গবেষণা সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৩৫ বছরে বাংলাদেশে লবণাক্ত জমির পরিমাণ প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ সালের হিসাবে, দেশের প্রায় ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত, যা উপকূলীয় অঞ্চলের মোট আবাদি জমির প্রায় ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি দেশের প্রায় ৪১ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকা কোনো না কোনো সময় খরার কবলে পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে কৃষি আজ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সামুদ্রিক শৈবাল ভিত্তিক বায়োস্টিমুল্যান্ট ব্যবহার করে ফসলের সহনশীলতা বাড়ানোর এই গবেষণা কৃষির টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। একই সঙ্গে গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ও বাকৃবির বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাহজিব-উল-আরিফ। 

তিনি জানান, 'বাংলাদেশের উপকূলে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক শৈবাল পাওয়া যায়, যা এখনো যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। বর্তমানে দেশে ৪৭ প্রজাতির সবুজ, ৫৯ প্রজাতির বাদামী ও ৯৪ প্রজাতির লাল শৈবাল শনাক্ত করা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, এসব শৈবালে থাকা ফেনোলিক যৌগ, পলিস্যাকারাইড ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গবেষণার অংশ হিসেবে হাইপনিয়া, গ্রাসিলারিয়া, সারগাসাম ও এন্টারোমর্ফা প্রজাতির শৈবাল থেকে কার্যকর নির্যাস তৈরি করে ধান ও গমের ফলন বৃদ্ধিতে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কম্পিউটেশনাল (In silico) পদ্ধতিতে শৈবালের জৈব সক্রিয় উপাদানগুলোর কর্মপদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

গবেষণা দলের সদস্য অধ্যাপক ড. শায়লা শারমিন ও অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হান্নান জানান, 'এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগে ফসলের শরীরবৃত্তীয় ও আণবিক স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে গমের জাত বিডব্লিউএমআরআই গম-১’-এর ওপর গ্রাসিলারিয়া শৈবাল নির্যাসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গবেষণা শেষে ২ থেকে ৩টি কার্যকর বায়োস্টিমুল্যান্ট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-২, ১৩ ও ১৪) অর্জনে সহায়ক হবে।'

প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শায়লা শারমিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঁঞা এবং বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশ নেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

News Desk Chief Editor, Our Voice Online