বিদ্যা যাত্রা ২০২৬-এ তরুণদের ধর্মচর্চা ও নেতৃত্বের পাঠ
ডঃ আনসার আহমেদ উল্লাহ
লন্ডনের বার্কিংসাইডে রবিবার অনুষ্ঠিত হল বিদ্যা যাত্রা ২০২৬। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন শিশু ও তরুণ-তরুণী অংশ নেয়। হিন্দু ধর্ম ও দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং সমাজসেবার মানসিকতা গড়ে তোলাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আয়োজক শুচিশ্মিতা মৈত্র (অহনা)-র স্বাগত বক্তব্যের পর স্বর্নীল মৈত্র (স্বর্গ) শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা থেকে পাঠ করে। এরপর শান্তনু দাস, স্পর্শিয়া দাস, মি. সুবাশ দাস, স্বর্নীল মৈত্র ও শুচিশ্মিতা মৈত্রের পরিবেশনায় ভজন ও আরতির মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
দিনভর অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও আনন্দদায়ক কার্যক্রমে অংশ নেয়। “হু অ্যাম আই? – ধর্মিক এডিশন”-এ রাম, হনুমান, সরস্বতী, গঙ্গা, হোলি ও দীপাবলি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের শেখা বিষয় অন্যদের সামনে উপস্থাপন করে তারা। “ঋষিজ মিস্ট্রি বক্স”-এ বিভিন্ন ধর্মীয় বস্তু শনাক্ত করে সেগুলোর তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
খেলাধুলার সেশন পরিচালনা করেন বিক্রম ব্যানার্জি ও ওজস্বী ব্যানার্জি। এছাড়া অতিথি বক্তা ধ্রুব ছত্রালিয়া বি.ই.এম. তরুণদের হিন্দু দর্শন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করেন এবং ‘কী বিশ্বাস করি’ এর পাশাপাশি ‘কেন বিশ্বাস করি’ এই প্রশ্নের ওপর গুরুত্ব দেন।
‘ধর্মা কোর্টরুম’-এ তরুণরা বিভিন্ন ধর্মীয় ও দার্শনিক বিষয়ে বিতর্কে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে যুক্তি উপস্থাপন, ভিন্ন মতামত শোনা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য রাখার দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ পায় তারা। ‘ধর্মা কম্পাস গেম’-এর মাধ্যমে সেবা, সত্য, সংঘ ও শক্তি—এই চারটি নীতিকে কেন্দ্র করে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে ‘বিদ্যা যাত্রা কাউন্সিল: চ্যারিটি ফোর্স’-এ অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কমিউনিটির উন্নতির জন্য বিভিন্ন ধারণা তুলে ধরে। এর মধ্যে একটি ধারণাকে ভবিষ্যতে তরুণদের নেতৃত্বে সেবা প্রকল্পে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দিনের শেষে “সরস্বতী নমস্তুভ্যম” প্রার্থনা এবং প্রতিফলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। অংশগ্রহণকারীরা মা সরস্বতীর উদ্দেশে নিজেদের আশা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চিঠি লিখে তা একটি ‘উইশ বক্স’-এ রাখে।
বিদ্যা যাত্রা ২০২৬-এর মাধ্যমে তরুণদের শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন নয়, প্রশ্ন করা, চিন্তা করা, বিতর্ক করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সমাজের জন্য কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল, ধর্মের শিকড়ে দৃঢ় থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং বৃহত্তর সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা।
What's Your Reaction?

