রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষে গীতবীণার বিশেষ গীতি-আলেখ্য

Nov 3, 2026 - 11:59
 0  2
রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষে গীতবীণার বিশেষ গীতি-আলেখ্য
ছবিঃ প্রতিনিধি/ওভি

ডঃ আনসার আহমেদ উল্লাহ
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইউরোপ ভ্রমণের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে লন্ডনের গীতবীণা, স্বাধীনতা ট্রাস্ট এবং কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পিন্টার স্টুডিওতে পরিবেশিত হয় এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানের সূচনায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গীতবীণার প্রধান উপদেষ্টা বাতিরুল হক সরদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন স্বাধীনতা ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক অ্যালেস্টার ওয়েনস। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক সুনীতা চৌধুরী ও রুমী হক বাংলা ও ইংরেজিতে গীতবীণার বিশেষ গীতি-আলেখ্য ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ পরিবেশনার ঘোষণা দেন। মূল সাংস্কৃতিক পর্বের প্রারম্ভে স্বাধীনতা ট্রাস্টের সহ-সভাপতি ভ্যালেন্টাইন হার্ডিং কবিগুরুর রচনা থেকে পাঠ করে শোনান।
গীতবীণার বিশেষ নিবেদন ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ গীতি-আলেখ্যের সূচনায় ড. শ্যামল চৌধুরী গীতবীণার একান্ত শুভাকাঙ্ক্ষী, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরীর আকস্মিক ও অকালপ্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং গীতবীণার প্রতি তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রবীন্দ্র-গবেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পীতম সেনগুপ্তের ধারাবর্ণনা এবং গীতবীণার সদস্য রুমী হকের ইংরেজি অনুবাদ পাঠের মধ্য দিয়ে গীতি-আলেখ্যটি এগিয়ে চলে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথের ইউরোপ ভ্রমণকালে রচিত একাধিক গান। সমবেত ও দ্বৈত কণ্ঠে মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশনায় অংশ নেন রুমী হক, মিতালী বনোয়ারি ও সুনীতা চৌধুরী। রবীন্দ্রসংগীতভিত্তিক নির্ধারিত রাগাংশ পরিবেশন করেন স্বাধীনতা ট্রাস্টের সদস্য বুধাদিত্য ভট্টাচার্য। সব গানের সঙ্গে তবলা সংগত করেন সন্দীপ চক্রবর্তী। শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও আলোক প্রক্ষেপণের দায়িত্বে ছিলেন কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলস।
গীতি-আলেখ্যটির মূল ভাবনা, গবেষণা ও ধারাবর্ণনায় ছিলেন ভারতের বিশিষ্ট রবীন্দ্র-গবেষক, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ১৯২৬ সালে ইউরোপ সফরকালে রবীন্দ্রনাথ যতসংখ্যক গান রচনা করেছিলেন, তাঁর অন্য কোন বিদেশ সফরে তেমনটি ঘটেনি। ৬৫ বছরে পদার্পণের পর ১৯২৬ সালের ১২ মে শান্তিনিকেতন থেকে নবমবারের মতো সপরিবারে বিদেশ সফরে যাত্রা করেন কবি। দীর্ঘ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইতালি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। কবির এই দীর্ঘ সফর শুধু ভৌগোলিক পরিসরেই বিস্তৃত ছিল না; তাঁর সৃজনশীল জীবনেও তা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সফরকালে রচিত গানগুলোর মধ্য দিয়ে সেই সময়ের অনুভব, অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয় তুলে ধরাই ছিল এই গীতি-আলেখ্যের অন্যতম উদ্দেশ্য।
গীতি-আলেখ্যের পর্ব শেষ হলে স্বাধীনতা ট্রাস্টের পরিচালক ড. আনসার আহমেদ উল্লাহ অনুষ্ঠানের আয়োজক, শিল্পীবৃন্দ, কলাকুশলী, সাংবাদিক এবং উপস্থিত দর্শকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গীতবীণার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় স্বাধীনতা ট্রাস্টের সভাপতি জামিল ইকবাল, সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক ড. শ্যামল চৌধুরী এবং পীতম সেনগুপ্তকে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতা ও মিলনায়তন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সাদেক আহমেদ চৌধুরী, মৃন্ময় রায় চৌধুরী, মোজাম্মেল হোসেন ও আফরিন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

News Desk Chief Editor, Our Voice Online